ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

৫ ভাদ্র ১৪৩৩

‘চিকেনস নেক’ করিডোরে চতুর্থ রেললাইন অনুমোদন ভারতের

প্রকাশ: ১১:৩০, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩০, ২০ আগস্ট ২০২৬

‘চিকেনস নেক’ করিডোরে চতুর্থ রেললাইন অনুমোদন ভারতের

ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব।  

 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মালদা–নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি করিডোর। এই অংশে আগে তৃতীয় রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে এখন চতুর্থ লাইন নির্মাণেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

 

তিনি আরও জানান, টিনমাই ঘাট থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-লাইন ভূগর্ভস্থ প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে রেলপথের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  

 

‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরটি উত্তরবঙ্গের একটি সরু ভূখণ্ড, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। করিডোরটির প্রস্থ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০–২২ কিলোমিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। দেশের নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থার দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। 

 

শ্রীবাস্তব বলেন, এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে পুরো রেল করিডোরের চেহারা বদলে যাবে এবং এলাকাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও পরিকল্পিতভাবে হবে। 

 

তিনি জানান, বারসোই অংশে রেললাইন দ্বিগুণ করার কাজও চলছে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতে কাটিহার ডিভিশনের বিভিন্ন স্থানে রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।  

 

গত এক বছরে বিভিন্ন রুটে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রায় ২৫০টি নতুন স্টপেজ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

 

এ ছাড়া জোগবানি, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে শিগগিরই নতুন লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিষেবা সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার যাত্রীদের যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত করবে বলে জানান তিনি। 

 

শ্রীবাস্তব আরও বলেন, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পুরো নেটওয়ার্কে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বৈদ্যুতিক ট্রেনের চলাচল আরও বাড়ানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে গুয়াহাটির পর ভান্দে ভারত ট্রেন পরিষেবা তিনসুকিয়া ও আগরতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। উভয় দিকেই এসব ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা আরও দ্রুত ও আরামদায়ক রেল পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন