ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

৪ ভাদ্র ১৪৩৩

‘রেলের ভুলের কারণে রাষ্ট্রের টাকা লোকসান হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না’: হাবিবুর রশিদ রেল প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | রেল নিউজ

প্রকাশ: ১৭:১৭, ১৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:১৭, ১৮ আগস্ট ২০২৬

‘রেলের ভুলের কারণে রাষ্ট্রের টাকা লোকসান হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না’: হাবিবুর রশিদ রেল প্রতিমন্ত্রী

রেলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নে ভুলের কারণে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এ ধরনের লোকসানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রেলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জানেন, রেলের কোথায় ভুল রয়েছে, কোথায় সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে এবং কোথায় বাস্তবায়নে গাফিলতি রয়েছে।

তিনি বলেন, “রেলের এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেন গ্রহণ করা হয়, যেই সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্রের শত শত হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে হয়।”

রেলের বিভিন্ন প্রকল্প ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, হুইলচেয়ার ও ট্রলির জন্য বেসরকারি সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। অথচ রেলের ওয়াশ প্ল্যান্টে ভুলের কারণে অনেক কোটি টাকা সরকারের লোকসান হচ্ছে। ডেমোর জন্যও কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। ১২৫টি ওয়াগন এনে ফেলে রাখা হয়েছে।

কোরিয়া ও আমেরিকার সহযোগিতায় আনা লোকোমোটিভের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৩০-৪০টি লোকোমোটিভ আনার পর সেগুলো বেয়ারিংয়ের কারণে পড়ে থাকায় শত শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। এসবের জবাবদিহিতা কে করবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসবের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখনো কোনো না কোনোভাবে কর্মরত আছেন। আবার অনেকে অবসরে চলে গেছেন। রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে, পড়ে আছে—এসবের জবাবদিহিতা কার কাছে হবে, সেটি জানতে চান তিনি।

রেলের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে, তার পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে যাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যখন স্টেশনে প্রবেশ করেন, তখন রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাদানকারী ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে তাঁর সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন কোনো রেল প্রকল্পে পরে প্রবেশগম্যতার বিষয় যুক্ত করা উচিত নয়। শুরু থেকেই স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ও টিকিটিং সিস্টেমে এ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যমান স্টেশনগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব স্টেশন একসঙ্গে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসিটি, ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন এবং যেসব স্টেশন বেশি যাত্রী ব্যবহার করেন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা নিতে হবে।

নতুন কোচে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের চলাচলের সুবিধা, প্রবেশগম্য টয়লেট, পর্যাপ্ত দরজা ও হ্যান্ডরেল নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে। কোনো স্থাপনা নির্মাণ শেষ হলেই কাজ শেষ নয়; সেটি বাস্তবে প্রতিবন্ধী যাত্রীরা ব্যবহার করতে পারছেন কি না, তার নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমি চাই না আজকের এই কর্মসূচি শুধু একটি ভালো আলোচনা হিসেবে শেষ হোক। আমি চাই, এখান থেকে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি হোক।”

ব্র্যাক ও সিডিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের ফলাফল শুধু একটি রিপোর্ট হয়ে থাকবে না। এর ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি হবে এবং প্রত্যেক কাজের দায়িত্ব নির্ধারিত থাকবে।

রেলের যাত্রীসেবার মান নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, রেলের ওয়াশরুম সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, ফ্যানগুলো ঠিকমতো চলতে হবে, ট্রেনে ওঠার সময় হুইলচেয়ার ও ট্রলির সুব্যবস্থা থাকতে হবে। যাত্রীছাউনি ও ওয়েটিং রুমগুলোও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সক্ষমতা যতটুকু রয়েছে, আমরা যদি আমাদের সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করি, আমার মনে হয় আমরা আমাদের ন্যূনতম যাত্রীসেবাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং ব্র্যাকের পরিচালক (সড়ক নিরাপত্তা) আহমেদ নাজমুল হুসাইন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন