ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কানুনগো নিয়োগে অনিয়ম:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অগ্রাহ্য করছে রেলওয়ে

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:৫৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অগ্রাহ্য করছে রেলওয়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগবিধি অনুসরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনের নিয়োগ যথাযথ হয়নি বলে মতামত দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভূমি শাখা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ফিল্ড কানুনগো পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ যথাযথ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া মতামতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট পাঁচজনের নিয়োগ যথাযথ হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনের বিষয়ে দ্রুত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ ফিল্ড কানুনগো পদে ছয়টি শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ডিপ্লোমা ইন সার্ভে সনদ চাওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ২৬ জুন পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) রেলপথ মন্ত্রণালয়  সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পৃথক চিঠি দেয়। সংগঠনটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া ডিপ্লোমা ইন সার্ভে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।

একই বিষয়ে ফিল্ড কানুনগো পদের ভাইভায় অংশ নেওয়া প্রার্থী মো. নাঈম হোসাইন ২০২৫ সালের ৭ জুলাই রেলপথ মন্ত্রণালয় সচিব ও রেলওয়ে  মহাপরিচালক লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই এবং নিয়োগপত্রের পাঁচ নম্বর শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অন্যদিকে, নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা, জাল সনদ ব্যবহার এবং অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে ইদ্রিস আলী, সিদ্দিকুর রহমান, আবু জাফর গাফফারি ও বিপ্লব কুমার রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইদ্রিস আলী বর্তমানে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি দপ্তরে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।  

অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পরও তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে ধীরগতি রয়েছে। এ ছাড়া এই  নিয়োগ প্রাপ্ত কানুনগো দের বাঁচাতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে রেলের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম  ও প্রকৌশলী আব্দুর রহিম  তাদের অনিয়মের সহযোগী হিসেবে কাজ করাচ্ছে প্রবিষণ পিরিয়ডে থাকা  নিয়োগ কানুনগো ইদ্রিস আলী কে রাখতে অভিযুক্তদের পক্ষে তদবির করার অভিযোগও উঠেছে। 

নিয়োগপত্রের পাঁচ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থীর দাখিল করা সনদ বা কাগজপত্র ভবিষ্যতে ভুয়া কিংবা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগপত্র বাতিলসহ তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পত্র প্রেরণের বিষয়টি সামনে আসার পর রেলওয়ের নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইদ্রিস আলী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রেলওয়েতে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ খোঁজার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, রেলওয়ের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়েরের হুমকি দিয়ে প্রশাসনকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম, তথ্যের অসংগতি এবং জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন