ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

৯ কার্তিক ১৪৩৩

লাকসামে ট্রেন লাইনচ্যুত ঘটনায় কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপানোর অভিযোগ প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:১৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৮, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

লাকসামে ট্রেন লাইনচ্যুত ঘটনায় কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপানোর অভিযোগ প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে

কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের পথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (ফেনী) গোলাম সরোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দুর্ঘটনার দায় কর্মচারীদের  ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, রেললাইনে ভাঙ্গা  শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। এরপর তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী মেরামতের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। 
দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও ঘটনার দায় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিজের দায় এড়াতে তাঁদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর রেললাইনে ভাঙ্গা  দেখতে পেয়ে মো. আব্দুল করিম নামের এক কর্মী, যিনি মেইট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে হেড মেইট হিসেবে কাজ করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ারকে জানান। পরদিন ২১ অক্টোবরও তাঁকে বিষয়টি অবহিত করা হয় বলে দাবি কর্মচারীদের।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর গোলাম সরোয়ার তাঁদের কাজ শুরু করতে বলেন এবং কন্ট্রোলকে অবহিত করবেন বলে জানান। এরপর দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে একটি ট্রেনে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে ট্রেন থেকে মালামাল নামানোর জন্য কন্ট্রোলকে জানানো হয়। ট্রেন থামার পর মালামাল নামিয়ে মেরামতের কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে তাঁদের দাবি।

এদিকে, গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে রেললাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কাজের  অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, সপ্তাহে দুই দিন রেললাইন পরিদর্শন কাজ করার কথা থাকলেও নিয়মিতভাবে তা করা হয় না। এমনকি কোনো কোনো মাসেও একবার কাজ করার নজির পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাঁদের। পাশাপাশি কাজের বিবরণী খাতায় নিয়মিত তথ্য লিপিবদ্ধ করার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে করা হয় না বলে দাবি করা হয়েছে।


২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান ফারহান মাহমুদ জানান, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত উঠে আসবে বলে তিনি জানান।

এর আগে ট্রেনটির লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, রেললাইনে মেরামতের কাজ চললেও তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার আগে রেললাইনের অবস্থা, মেরামত কার্যক্রম এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে লাঙ্গলকোট–লাকসাম সেকশনে নাওটি স্টেশনের কাছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। পরে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন