ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক: ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেল লাইনের দাবি তুললেন ইলেন ভুট্টো

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:৩২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০০:৩২, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক: ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেল লাইনের দাবি তুললেন ইলেন ভুট্টো

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে ভাঙ্গা–বরিশাল–পটুয়াখালী–পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো। তাঁর মতে, দেশের সব বিভাগের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ থাকলেও বরিশাল বিভাগের সঙ্গে এখনো রেল যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রস্তাবিত রেল সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র দ্বিতীয় বৈঠকে তিনি এ দাবি জানান। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের দ্বিতীয় লেভেলে অবস্থিত ১ নম্বর স্থায়ী কমিটি কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো বলেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী ও পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার রেল সংযোগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের কাজ ২০২২ সালে শেষ হয়েছে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ থাকলেও বরিশাল বিভাগের সঙ্গে এখনো রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় ভাঙ্গা–কুয়াকাটা রেললাইন বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর হবে। একই সঙ্গে পায়রা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাঙ্গা–কুয়াকাটা রেললাইন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আহম্মদ হোসেন মাসুম জানান, তিনি নিজেও এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের সময় প্রকল্পটির গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ রেল সংযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে প্রকল্পটির গুরুত্বের বিষয়টি বৈঠকে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত জমি, ইজারাকৃত জমির পরিমাণ, ইজারা থেকে আয়, ইজারা গ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধভাবে দখল করা জমি ও দখলদারদের তালিকা এবং ভূমিসংক্রান্ত মামলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

রেলওয়ের ভূমি ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি অনলাইন রেল টিকিটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগর। এতে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, মো. আবু সাঈদ চাঁদ, মো. রবিউল আওয়াল, মুঃ মিজানুর রহমান, মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান ও মো. গোলাম রব্বানীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন