শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:২১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নতুন অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এসব চুক্তির মাধ্যমে রাজধানীর মেট্রোরেল অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬ ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে চুক্তিগুলো ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং মানুষের যাতায়াতের সময় কমানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ভোগান্তি দীর্ঘায়িত না হয়।
নির্মাণকাজের পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান সড়ক সচিব। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং যোগাযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকাবাসীর জন্য আধুনিক, দক্ষ ও আরামদায়ক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
### এমআরটি লাইন-১-এ নির্মিত হবে ৪৯টি স্থাপনা
স্বাক্ষরিত চারটি প্যাকেজের মধ্যে দুটি এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। এর প্রথমটি হলো কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০২, যার আওতায় ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্যাকেজের অধীনে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ‘SINOHYDRO-SEBCL JV’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এমআরটি লাইন-১-এর দ্বিতীয় প্যাকেজ সিপি-০৭-এর আওতায় ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাতালপথ থেকে উড়ালপথে ওঠার ট্রানজিশন পয়েন্ট থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ‘CREC-MIL-MBEC JV’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
### এমআরটি লাইন-৫-এ বাড়বে উড়াল রেলপথের পরিসর
এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর আওতায়ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সিপি-০২ প্যাকেজের অধীনে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। এ প্যাকেজে প্রশাসনিক ভবন, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (ওসিসি), ডিপো কন্ট্রোল সেন্টার (ডিসিসি), স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, ওয়ারহাউস ও ওয়ার্কশপ শেডসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ‘CPC-HANIL JV’।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এই প্যাকেজের অধীনে হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে ‘CREC-MIL-MBEC JV’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
### যানজট নিরসন ও যাতায়াতে স্বস্তির প্রত্যাশা
রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদার বিপরীতে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এই চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে মেট্রোরেলের ডিপো অবকাঠামো, উড়াল রেলপথ এবং স্টেশন সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।
এর ফলে ভবিষ্যতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করা, সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমানো এবং গণপরিবহনে নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি করার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পগুলোর সুফল নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর সমন্বয় ও তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।