শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:০১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:১৬, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের চকরিয়া রেলস্টেশনে বিরতি এবং পার্শ্ববর্তী ৮টি উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য কোটা/আসন সংরক্ষণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা 'মহানগর এক্সপ্রেস' সহ অন্যান্য দূরপাল্লার ট্রেনের বিরতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা জানান, চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী এবং বান্দরবানের লামা ও আলীকদম—এই ৮টি উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষকে প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটতে হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চকরিয়া স্টেশনে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় পুরো অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত ট্রেন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কক্সবাজার সদর কিংবা চট্টগ্রামে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে, যার ফলে অর্থ ও সময় দুটোই অপচয় হচ্ছে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, "চকরিয়ায় স্টপেজ না থাকায় ৮ উপজেলার লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোকে অন্তত ৫ মিনিটের জন্য হলেও চকরিয়া স্টেশনে থামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।"
আয়োজকদের পক্ষে মাতামুহুরী উপজেলা যুবদলের নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, জনস্বার্থে চকরিয়া স্টেশনে আসন বরাদ্দ ও যাত্রাবিরতি চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে।
এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম উপস্থিত ছিল। তিনি জানান, শৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ দাবির প্রতি পুলিশের সমর্থন রয়েছে, তবে রেলের সম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি।
চকরিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানান, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে সকাল বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। কর্মসূচি চলাকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।