ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্গাপূজায় চলবে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের অফ ডে প্রত্যাহার

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭:৫৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজায় চলবে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের অফ ডে প্রত্যাহার

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঘরমুখী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে পাঁচটি ট্রেনের নির্ধারিত অফ ডে (সাপ্তাহিক বিরতি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ‘ঢাকা স্পেশাল-৩’ এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪’ চলাচল করবে। এ ছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর মোট তিন দিন ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ২’ পরিচালনা করা হবে।

যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০ অক্টোবরের অফ ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯ অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪ অক্টোবরের অফ ডেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পূজার সময় অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা পূরণে পূর্বাঞ্চলে ২৩টি মিটারগেজ কোচ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রেন পরিচালনার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা ও সিডিউল বিপর্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের নিবিড় তদারকিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্র্যাক ও সেতুতে নিয়মিত পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের নিবিড় পরিচর্যা করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য রিলিফ ট্রেনগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ দেশের প্রধান রেলস্টেশনগুলোতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ১৯ ও ২০ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হবে।

চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি এবং রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। এতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি, সংশ্লিষ্ট সচিব ও দপ্তরপ্রধান, ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন