ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৮৯০ বাতিল করে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না- মনিরুজ্জামান মনির

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:৪৪, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৬, ২২ জুলাই ২০২৬

রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৮৯০ বাতিল করে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না- মনিরুজ্জামান মনির

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ঘিরে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ দেশবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইঞ্জিন ও কোচ সংকট নিরসনে দীর্ঘসূত্রতা, রেলওয়ে কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২০ পাঁচ বছরেও সংশোধন না হওয়া,  শতবর্ষের রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৮৯০ বাতিল করে নতুন রেলওয়ে আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ, অনবোর্ড সেবা এবং আউটসোর্সিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ—এসব বিষয় আজ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, পোষ্য পরিবার এবং রেলনির্ভর সাধারণ মানুষের মধ্যে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাংলাদেশ রেলওয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কোনো সিদ্ধান্তই গোপনে, অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে কিংবা জনস্বার্থের পরিপন্থীভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রতিটি সংস্কার, আইন প্রণয়ন ও নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের আশঙ্কা, যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া এসব নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোর দাবি, প্রতিটি উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের দাবি
১. ইঞ্জিন ও কোচ সংকট নিরসনে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে।

২. রেলওয়ে কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২০ গত পাঁচ বছরেও কেন সংশোধিত হয়নি, তার কারণ নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করতে হবে।
৩. নতুন রেলওয়ে আইন, ২০২৬-এর খসড়া অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, যাতে নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনেরা মতামত দেওয়ার সুযোগ পান। জনসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. অনবোর্ড সেবা ও আউটসোর্সিং কার্যক্রমের সকল চুক্তি, ব্যয়, দরপত্র এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
৫. জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বা দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে- এমন যেকোনো উদ্যোগ পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
৬. রেলওয়ের সকল সংস্কার কার্যক্রমে কার্যকর সংসদীয়, প্রশাসনিক ও জনপর্যায়ের নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- বাংলাদেশ রেলওয়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের সম্পত্তি নয়; এটি দেশের জনগণের সম্পদ। তাই জনস্বার্থ উপেক্ষা করে, অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সোচ্চার হবে।

রেলওয়ের শতবর্ষের ঐতিহ্য, রাষ্ট্রীয় মালিকানা, জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। রেলওয়ের নামে কোনো জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

"রেলওয়ে বাঁচলে দেশ এগোবে। দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী রেলওয়ে প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।"

মনিরুজ্জামান মনির
সভাপতি
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন