ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

৪ ভাদ্র ১৪৩৩

লোকোমোটিভ ক্রয়কে কেন্দ্র করে যে তথ্য ও অভিযোগ এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক

মনিরুজ্জামান মনির

প্রকাশ: ১৮:৪২, ১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫২, ১ জুলাই ২০২৬

লোকোমোটিভ ক্রয়কে কেন্দ্র করে যে তথ্য ও অভিযোগ এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য নতুন করে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয়কে কেন্দ্র করে যে তথ্য ও অভিযোগ জনসম্মুখে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন সাহেবের প্রকাশিত বক্তব্যে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসনের স্বার্থে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যে টেন্ডার এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অনুমোদনও সম্পন্ন হয়নি, সেই টেন্ডারের নথি কীভাবে একজন সাবেক কর্মকর্তার কাছে পৌঁছালো?
যদি সত্যিই উভয় টেন্ডারের নথি তাঁর কাছে থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি দুটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

প্রথমত, তিনি হয়তো অনিয়মের আশঙ্কা সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করতে তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে তাঁর উপস্থাপিত তথ্য ও অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

দ্বিতীয়ত, এটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ের অভ্যন্তরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা অথবা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে গোপন নথি তাঁর কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকতে পারে। এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন ও সম্ভাবনা, কিন্তু এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়। তাই এ বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

আমরা অতীতে রেলওয়ের বিভিন্ন নিয়োগ ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক দেখেছি। তাই এবারও জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি বৃহৎ প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাই—
১. ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয়ের সম্পূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
২. বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল সুপারিশ এবং চূড়ান্ত টেন্ডার ডকুমেন্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তার কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
৩. অনুমোদনের আগেই টেন্ডারের নথি কীভাবে বাইরে এলো, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. রাষ্ট্রের একটি টাকাও যেন অপচয় বা দুর্নীতির মাধ্যমে নষ্ট না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের সম্পত্তি নয়; এটি দেশের জনগণের সম্পদ। তাই রেলের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে সকল প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর।

মতামত :

মনিরুজ্জামান মনির
সভাপতি, বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন