শিরোনাম
মোঃ ওসমান আলী
প্রকাশ: ১২:০৮, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০৪, ১৯ জুলাই ২০২৬
রেল একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা, যেখানে স্বল্প খরচে অধিক সংখ্যক মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। তাই যাত্রী চাহিদা, রুটের সম্ভাবনা এবং দেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে দর্শনা থেকে ঢাকাগামী নতুন ট্রেন চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সম্প্রতি রেলের কিছু কর্মকর্তা দর্শনায় ওয়াশপিট ও মেইনটেন্যান্স সুবিধা না থাকায় নতুন ট্রেন চালু করা সম্ভব নয় বলে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু এই যুক্তি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
যশোরের বেনাপোল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালিত হয়ে আসছে। সেখানে নিজস্ব ওয়াশপিট বা পূর্ণাঙ্গ মেইনটেন্যান্স সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও যদি ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হয়, তাহলে দর্শনার ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না কেন?
সাপ্তাহিক মেইনটেন্যান্সের জন্য বেনাপোল এক্সপ্রেসকে যদি প্রায় ৯৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে খুলনা যেতে পারে, তাহলে দর্শনা থেকে মাত্র প্রায় ৯৯ কিলোমিটার দূরের ঈশ্বরদী জংশনে গিয়ে একই ধরনের মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয় কেন—এই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নতুন ট্রেন চালুর জন্য প্রতিটি স্টেশনে আলাদা করে সব ধরনের সুবিধা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সাধারণ মানুষের রেলসেবা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিকটবর্তী জংশন বা নির্ধারিত মেইনটেন্যান্স পয়েন্ট ব্যবহার করেই কার্যকরভাবে ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব।
এছাড়াও দর্শনা থেকে ট্রেন চালু করে সেটিকে খুলনা বেজ করেও পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব কমে যাওয়ায় একটি রেক ব্যবহার করে ডাবল ট্রিপ পরিচালনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যেমন—একটি ট্রেন দর্শনা–পদ্মা সেতু–ঢাকা রুটে চলাচল করবে এবং একই রেক খুলনা–নড়াইল–খুলনা রুটে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত রেকের প্রয়োজন কমবে এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইতিপূর্বে পাকশী কন্ট্রোল থেকেও এ ধরনের পরিচালন পরিকল্পনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাই শুধু সীমাবদ্ধতার কথা না বলে, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা বৃদ্ধি করা। দর্শনা–রাজবাড়ী–পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা, দর্শনা–যশোর–পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা নতুন রেল সংযোগ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।