ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন: শুধু নতুন প্রকল্প নয়, দরকার কার্যকর সংস্কার: মো: ওমর ফারুক

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:২৮, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৮, ১৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন: শুধু নতুন প্রকল্প নয়, দরকার কার্যকর সংস্কার: মো: ওমর ফারুক

বাংলাদেশ রেলওয়ের টেকসই উন্নয়নে শুধু নতুন প্রকল্প গ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা নতুন ইঞ্জিন ও কোচ কেনাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগ (বিআরইএল) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি **মো. ওমর ফারুক*।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হলে কয়েকটি মৌলিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সংস্কারের প্রধান ক্ষেত্রগুলো----

ইঞ্জিন ও কোচ সংকট নিরসন: মিটারগেজ ইঞ্জিন ও কোচের সংকট দূর করতে পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ, আধুনিক ওয়ার্কশপ স্থাপন, মানসম্মত খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবহার এবং দক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ কারিগর তৈরি করতে হবে।

পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণ: শিল্পাঞ্চলভিত্তিক কন্টেইনার টার্মিনাল স্থাপন, নির্ধারিত সময়সূচিভিত্তিক মালবাহী ট্রেন পরিচালনা এবং বন্দর-রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

টিকিটিং ব্যবস্থার সংস্কার: কালোবাজারি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, ডিজিটাল অটোমেশন, যাত্রীবান্ধব সেবা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

রেললাইন ও অবকাঠামো উন্নয়ন:পুরোনো রেললাইন ও সেতুর আধুনিকীকরণ, ডাবল লাইন নির্মাণ এবং উন্নত সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

নিরাপত্তা জোরদার: স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, আধুনিক ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু, লেভেল ক্রসিং নিরাপদ করা এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ: সব টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় শতভাগ ই-জিপি (e-GP) নিশ্চিত করা, স্বাধীন কারিগরি অডিট চালু করা, নিম্নমানের কাজ, অতিরিক্ত বিল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয়, অগ্রগতি ও মাননিয়ন্ত্রণের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা (Grievance Mechanism) চালু করার আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা: অব্যবহৃত রেল সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার, বাণিজ্যিক স্পেস তৈরি করে আয় বৃদ্ধি, জরাজীর্ণ রেল কোয়ার্টার সংস্কার এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

অপারেশন ব্যবস্থাপনা: সময়নিষ্ঠ ট্রেন পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপারেশন মনিটরিং এবং দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মীদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন: নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ সংশোধন করে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, নিয়মিত ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং পে-স্কেল সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মো. ওমর ফারুক বলেন, “বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, দক্ষ শ্রমিক তৈরি এবং তাদের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা যাবে। এসব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি নিরাপদ, লাভজনক, আধুনিক ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হবে।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন