শিরোনাম
মো: মোতাহার হোসেন সরকার( স্টাফ রিপোর্টার)।
প্রকাশ: ১৭:৫১, ৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫১, ৯ জুন ২০২৬
রেলের টিকিট প্রাপ্তি নিয়ে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মোঃ রবিউল ইসলাম। পোস্টে তিনি টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “রেলের কাউন্টারে টিকেট থাকেনা, অনলাইনেও থাকেনা। কিন্তু ৩৪৫২ টাকার টিকেট ৮০০০ টাকায় একজন কিনে দিলো। জানালো সহজের লোক থেকে নিয়েছি। ফা কিং কালোবিড়াল।”
টিকিট ইস্যু প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, “টিকেটের গায়ে ইস্যুকারি অফিসার কে লেখা নাই কেন? পুলিশের প্রত্যেকটি কাগজে অফিসারের নাম, মোবাইল নাম্বার থাকে। জানা যায় কে কাজটি করেছে। কিন্তু কে কোন টিকেট ইস্যু করছে পরিষ্কার বোঝা দরকার।”
পোস্টে তিনি দাবি করেন,টিকিট বিক্রয়সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান "সহজ ডট কম" অফিসে ফোন করলে সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে একজন কর্মকর্তা তার সিনিয়র পরিচয় দিয়ে তাকে ‘স্যার’ সম্বোধন করতে বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “সমস্যার কোন গুরুত্ব নেই। এই লোকগুলো মরা খাটে শুয়েও বলতে পারে স্যার বলে কবরের দিকে নিয়ে চলো।”
রবিউল ইসলাম জানান, তিনি রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা কোচের ৪১-৪৪ নম্বর আসনের যাত্রী ছিলেন। নিজের পোস্টে তিনি টিকিটের ছবিও সংযুক্ত করেন।
রবিউল ইসলামের এই পোস্টে অনেক নেটিজেন মন্তব্য করেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
জসিম উদ্দিন আহমেদ নামে একজন মন্তব্য করেন, “টিকিট ক্রয়ের স্থান, তারিখ ও সময় ধরে এগিয়ে যাওয়া হউক।”
আবু সোহেল নামে আরেকজন লেখেন, “আপনি এত টাকায় টিকিট নেওয়ার থেকে আপনি হুন্দাই বাসের স্লিপারে করে যেতে পারতেন।”
সাদিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “স্যার এটা কার দোষ??? পুলিশের।”
তৌফিক হায়াত ওসিন নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, “টিকিট কাউন্টারের ঐখানে লোক থাকে, ওনারা পরিবারের আইডি কার্ড দিয়ে ইচ্ছে মতো টিকিট কেটে রাখে। আমি মোহনগঞ্জ যাওয়ার টিকিট কাটতে পারছি কিন্তু ব্যাক করার টিকিট ২ দিনেও কাটতে পারিনি। টিকিট দেওয়ার ৫ মিনিট আগে থেকে লগইন করে বসে ছিলাম ৪ জন ৪টা আইডিতে, ২টা টিকিটের জন্য। মূলত ভিতরের মানুষ জড়িত থাকে ৭০-৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি ট্রেনের স্টাফগুলোও জড়িত, ওনারা ডিরেক্ট সিট দিয়ে থাকে। এইটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলা, আরও অনেক সিন্ডিকেট চোখে পড়েছে, অনেকদিন প্রতিবাদ করেছি কাজ হয়নি, উত্তর না দিয়ে চলে যায়।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, রেলের টিকিট বিক্রিতে সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ফলে টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী টিকিট পান না। অথচ একই টিকিট পরে কালোবাজারি বা অন্য মাধ্যমে পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা মনে করেন, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে টিকিট কালোবাজারি এবং অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।