প্রকাশ: ০০:৪৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০০:৪৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
জহিরুল ইসলাম রাতুল:-
ঢাকা–খুলনা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর জাহানাবাদ এক্সপ্রেসের ট বগির বৈদ্যুতিক জংশন বক্স থেকে মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার (এমসিবি) চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনটির নির্ধারিত যাত্রা শুরুর পর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত ট বগিতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না। ঘটনাটি ঘিরে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)-এর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, শনিবার ভোর ৬টার দিকে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস। তবে যাত্রার শুরুতেই ট বগিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। আলো, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সুবিধা বন্ধ থাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয় তাদের।
ট্রেনটি খুলনা ছেড়ে আসার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট বগিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। রেলওয়ে সূত্র বলছে, ট বগির বৈদ্যুতিক জংশন বক্স থেকে এমসিবি চুরি হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
ট বগিতে থাকা একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে এ ধরনের চুরি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন যাত্রী বলেন, “স্টেশন এলাকা ও ট্রেনের নিরাপত্তা যদি ঠিকভাবে নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়?”
এ ঘটনার পর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন ছাড়ার আগেই বগিতে চুরি হওয়া সত্ত্বেও তা নজরে না আসা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই প্রমাণ করে।
এই বিষয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)র চিফ ইন্সপেক্টর রাহাত বলেন, চুরির বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এ বিষয়ে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, যে বা যারা ওই সময় ডিউটিরত ছিল তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কারা এ চুরির সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যাত্রী অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত নিরাপত্তা তদারকি ও দায়িত্বশীল বাহিনীর কার্যকর নজরদারি ছাড়া রেলপথে যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।