প্রকাশ: ০৯:৩২, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩২, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক :
ইঞ্জিন সংকটে এক বছর থেকে বন্ধ রয়েছে ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব লোকাল, দেওয়ানগঞ্জ লেকাল, মোহনগঞ্জ লোকাল ও ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে এসব রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন ট্রেনগুলো এক বছর থেকে বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।কবে নাগাদ এই ট্রেনগুলো চালু হবে তা জানাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।
তবে এক মাস ধরে বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে চালু হয়েছে ময়মনসিংহ-জারিয়া রুটের লোকাল ট্রেন।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, ভৈরব লোকাল ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব, মোহনগঞ্জ লোকাল ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, জারিয়া লোকাল ময়মনসিংহ জারিয়া, ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ থেকে জামালপুর হয়ে থেকে টাঙ্গাইলের ভুয়াপড়া পর্যন্ত এই ট্রেনগুলো চলাচল করে।সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া, মোহনগঞ্জ, ভৈরব ও দেওয়ানগঞ্জ লোকাল ট্রেনগুলো নেত্রকোনা জেলার নেত্রকোনা কোর্ট, হিরনপুর, অথিতপুর, চল্লিশা, বাংলা, ঠাকুরাকোণা, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, শ্যামগঞ্জ, পূর্বধলা, জালসুকা, জারিয়া জাঞ্জাইল, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা এবং ময়মনসিংহ জেলার শম্ভূগঞ্জ, গৌরীপুর, বিসকা, তারাকান্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলার ধরমপাশা, বাদশাগঞ্জ, মধ্যনগর, তাহেরপুর, জয়শ্রী, দিরাই, রাজনগরসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলের যাত্রীদের চলাচলের অন্যতম উপায়। এসব এলাকার জনসাধারণ মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও নানা শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত এ ট্রেনে যাতায়াত করে বিভিন্ন প্রয়োজনে অল্প সময়ের স্বল্প খরচে প্রতিনিয়ত বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে আসেন।লোকাল ট্রেন দুটি বিনা নোটিশে বন্ধ থাকায় এ সকল যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বেশি ভাড়ার বাস বা সিএনজি চালিত অটোরিকশা ব্যবহার করছেন। বাসে যাতায়াতের কারণে জ্যামের মধ্যে পড়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
এছাড়াও চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইঞ্জিন সংকটের কারণে লোকাল ট্রেন দুটি স্টেশনের প্লাটফরমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ট্রেনে ফ্যান আছে কিন্তু ঘোরে না, জানালা আছে কিন্তু শাটার নেই, বাতি আছে, জ্বলে না। সন্ধ্যার পর কম্পার্টমেন্ট হয়ে পড়ে অন্ধকার। বগিতে শৌচাগার আছে পানি নেই, ট্রেনের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ট্রেনজুড়ে দুর্গন্ধ।আসনগুলোর অবস্থাও বেহাল। কোনো কোনো আসন ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছে নারিকেলের ছোবড়া।
নিয়মিত এসব ট্রেন ব্যবহার করা যাত্রীরা জানেন যে এই ট্রেনটি কখনো সময় মেনে চলে না। কোনো দিন ঠিক সময়ে ট্রেন আসে না, ছাড়েও না। এত ভোগান্তি জেনেও শুধু নিরাপদ ও ভাড়া কম হওয়ায় এই ট্রেন দুটির যাত্রী চাহিদা ব্যাপক। নানা ভোগান্তির মধ্যেও ভাটি অঞ্চলের মানুষ এই ট্রেনে ছুটে চলে গন্তব্যের উদ্দেশে। তাই সারা বছর যাত্রীদের ভিড় দেখা যায় এ ট্রেনে।এদিকে, হাওরের রাজধানী খ্যাত মোহনগঞ্জ উপজেলা দেশি মাছের জন্য বিখ্যাত। এক সময় এ অঞ্চলে ব্যাপক পাট উৎপাদন হত। এজন্য ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার মাছ ও পাট পরিবহনের জন্য ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করেছিল। মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেনটি প্রতিদিন ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ স্টেশনে সকাল-বিকেল দুবার পাঁচটি বগি নিয়ে আসা-যাওয়া করে থাকে। বিকল্প সড়কে খরচ বেশি হওয়ায় স্বল্প খরচে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম জারিয়া ও মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেনটি। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাসিন্দা আনিছুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘কোনো নোটিশ ছাড়াই কিছুদিন পরপর ট্রেনটি বন্ধ থাকে। বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ট্রেনটি চালুর দাবি জানান এই লোকাল ট্রেনের যাত্রী।’
এ অঞ্চলের যাত্রীরা জানান, তারা দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচলে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সড়ক পথে তাদের জন্য চলাচল কষ্টকর। তাই দ্রুত ট্রেন চালু করার দাবি তাদের।ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপার আব্দুলাহ আল হারুন বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে যেসকল লোকাল ট্রেন আছে ইঞ্জিন সংকটের কারণে সবগুলো ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। দ্রুত ইঞ্জিনের সমস্যা সমাধান করে ট্রেনগুলো চালু করা হবে। ময়মনসিংহ থেকে চলাচল করা লোকাল ট্রেনগুলোর জন্য অন্তত ১২টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। তবে, আছে মাত্র দুটি ইঞ্জিন। বিকল হওয়া ইঞ্জিনগুলো ঢাকা লোকোশেড, রাজশাহী রাজশাহী লোকোশেড ও সৈয়দপুর লোকোশেডে মেরামত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।’লোকোশেড ইনচার্জ মাসুদ আহমেদ জানান, লোকো মোটিভের প্রাপ্যতা না থাকায় এই লোকাল ট্রেনগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তীতে লোকো মোটিভের প্রাপ্যতা স্বাভাবিক হলে আমরা এই ট্রেন চালাতে পারব। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত আছে।