শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৫৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে সবুজায়ন বাড়াতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১৫ হাজার বৃক্ষ প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের কাছে এসব বৃক্ষ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রেলভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়। এতে রেলপথ সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামসহ ব্র্যাক ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ব্র্যাকের এ উদ্যোগকে পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং রেলওয়ের সম্পদ ও অবকাঠামোর আশপাশে সবুজায়ন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে এসব বৃক্ষ রোপণ করা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, অক্সিজেন সরবরাহ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও বৃক্ষের ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিস্তৃত রেললাইন, স্টেশন, রেলভবন ও অন্যান্য স্থাপনার আশপাশে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা গেলে রেলওয়ে এলাকার পরিবেশ আরও সবুজ ও মনোরম হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রেলওয়ের খালি জায়গায় উপযুক্ত প্রজাতির গাছ রোপণ এবং সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ সংরক্ষণে সুফল পাওয়া সম্ভব।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১৫ হাজার বৃক্ষ প্রদান করায় রেলওয়ের সবুজায়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিতভাবে এসব বৃক্ষ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এ উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘস্থায়ী অবদান রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ব্র্যাকের এ উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে।