ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩

আখাউড়া-লাকসাম রেল প্রকল্প ১৫১৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের কৃতিত্ব কি প্রকৌশলী তানভীরুলের!!

তাহলে এই প্রকল্পে দুর্নীতির দায় কার?

বিশেষ প্রতিবেদকঃ 

প্রকাশ: ০৯:১১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:১১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আখাউড়া-লাকসাম রেল প্রকল্প ১৫১৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের কৃতিত্ব কি প্রকৌশলী তানভীরুলের!!

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬,৫০৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিপরীতে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইন প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ৪,৯৮৬ কোটি ৪ লাখ টাকায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ১,৫১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে তানভীরুল ইসলাম প্রকল্পটির শেষ পর্যায়ে পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন (মে ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত) তার মানে কি এই কৃতিত্ব তানভীরুল ইসলামের?
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি অনলাইনে পেইড মার্কেটিং চালিয়ে আইওয়াশ করার চেষ্টা করেছে প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম। আসলে বাস্তবতা হচ্ছে এ প্রকল্পে প্রায় ১০ জন প্রকল্প পরিচালক ছিল। প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়াতে না চাইলে অনেক প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেছে তমা-ম্যাক্সের ক্যাডার বাহিনী। কথা মতো কাজ না করায় অনেক প্রকৌশলীকে বদলি এবং ওএসডি করা হয়েছে হরহামেশাই। যারা তমা-ম্যাক্সের আজ্ঞাবাহ হয়েছে একমাত্র তাদেরকেই সুন্দরভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলামের সাথে তমা-ম্যাক্সের সম্পর্ক সবাই কম বেশি অবগত। এই প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক বলেন, ‘ম্যাক্স-তমা গ্রুপের আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি আমি নিজেই দেখেছি। মাটি ভরাটের কাজে নজিরবিহীন দুর্নীতি করা হয়েছে।
এ প্রকল্প নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির সব রেকর্ড ভেঙেছে ম্যাক্স ও তমা। ২০১৪ সালে অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে ৬ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা দাঁড়ায়। এ প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়েছে ৫ বছর পরে ২০২৫ সালের ৩০ জুন।   এই প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ আছে। এ নিয়ে দুদক তদন্তও করছে। প্রকল্পটির জন্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার ঘনমিটার মাটির যোগান দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে বাড়িয়ে মাটির পরিমাণ করা হয় ১১ লাখ ঘনমিটার। ২৮০ টাকা ঘনমিটারের মাটির দাম পরে নির্ধারণ করা হয় ৬৫০ টাকা। শুরুতে মাটির কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকায়। কার্যত সিন্ডিকেট করে মাটির পরিমাণ ও দাম বাড়িয়ে এই বিপুল টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনমনে প্রশ্ন তানভীরুল ইসলাম ১৫১৮ কোটি টাকা সাশ্রয়ের ক্রেডিট নিতে চাচ্ছেন, তাহলে এই প্রকল্পের পুরো দুর্নীতির দায় কি তিনি নিবেন? উল্টো এই প্রকল্পেই তারভীরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শেষ দিকের বিল সেটেলমেন্টের (Bill Settlement) বা চূড়ান্ত বিল নিষ্পত্তি হলো একটি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ধাপ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের আওতায় সম্পাদিত সমস্ত কাজের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে ঠিকাদার বা সরবরাহকারীর পাওনা পরিশোধ করা হয়। তমা-ম্যাক্সের আজ্ঞাবাহ হয়ে এই কাজটি করেছে প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম। 
এ ব্যপারে তানভীরুল ইসলামের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে রেল নিউজ। তবে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন