শিরোনাম
প্রকাশ: ২২:৫৭, ২৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৭, ২৯ আগস্ট ২০২৬
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রী ছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ এই প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও নেই কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা। ফলে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেই যাত্রীদের ছুটতে হয় টিকিট কাউন্টার, দোকানের নিচে কিংবা অন্য কোনো আশ্রয়ের খোঁজে। আবার তীব্র রোদেও ছায়ার অভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
স্থানীয়রা জানান, ট্রেন ক্রসিংয়ের সময় বিপরীত দিকের ট্রেন ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়। ফলে ট্রেন আসার পর সেখানে গিয়ে ওঠার সুযোগ থাকে না। তাই যাত্রীদের ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগেই ওই প্ল্যাটফর্মে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সেখানে কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকায় বৃষ্টি কিংবা প্রখর রোদের মধ্যে বাধ্য হয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘ অংশজুড়ে যাত্রীদের জন্য কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি শুরু হলে কেউ দোকানের নিচে, কেউ টিকিট কাউন্টারের আশপাশে আশ্রয় নেন। তীব্র রোদের সময়ও ছায়ার খোঁজে যাত্রীদের এদিক-সেদিক ছুটতে দেখা যায়। তবে ট্রেন আসার ঘোষণা হলেই আবার দ্রুত প্ল্যাটফর্মে ফিরে যেতে হয়। এতে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশন দিয়ে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেন। ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে সপ্তাহে গড়ে ২৫ থেকে ২৮ বার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়ায়। এ সময় প্ল্যাটফর্মটিতে যাত্রীদের চাপও বেড়ে যায়।
বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি বেশি। বৃষ্টিতে প্রেসক্রিপশন, চিকিৎসার রিপোর্ট, ওষুধ, কাপড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভিজে যায়। অন্যদিকে তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায়। ট্রেন আসার সময় ভিড়ের মধ্যে পানি মাড়িয়ে কিংবা প্রচণ্ড গরমে দ্রুত ট্রেনে উঠতে গিয়েও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মীর শাহে আলী বলেন, “ট্রেন ধরতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হয়। বৃষ্টি শুরু হলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। আবার রোদেও ছায়া পাওয়া যায় না। ছোট বাচ্চা, বয়স্ক বা রোগী সঙ্গে থাকলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।”
চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন রওশন আরা। তিনি বলেন, “রোগী নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট হয়। একদিকে রোগী সামলাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাগ ও কাগজপত্র বাঁচাতে হয়। রোদের সময়ও রোগী নিয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। একটি ছাউনি থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না।”
স্থানীয় বাসিন্দা বকুল সরদার বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ যে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করেন, সেখানে ছাউনি না থাকা দুঃখজনক। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে হয়। রোদের সময়ও ছায়ার জন্য মানুষকে এদিক-সেদিক যেতে হয়। দ্রুত এখানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছাউনি থাকলেও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের যাত্রীদের জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। অথচ ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে নিয়মিত ওই প্ল্যাটফর্মেই ট্রেন দাঁড়ায়। তাই যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অন্তত প্ল্যাটফর্মের একটি অংশে হলেও দ্রুত ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জায়গা সংকটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বয়স্ক ও শিশু যাত্রীরা ভিজে যান। রোদের সময়ও তাদের কষ্ট হয়। এ নিয়ে যাত্রীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চারটি ট্রেন ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়।