শিরোনাম
আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯:৫৯, ১৬ মার্চ ২০২৬
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় রোববার (১৫ মার্চ) রাতে জংশন স্টেশনে ঘটে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা।
জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে রমনা বাজার রেল রুটে চলাচলকারী রমনা কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনের ২ নম্বর ডক ইয়ার্ডে (মিটার গেজ) অবস্থান করছিলো। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ট্রেনের পাওয়ারকার (জেনারেটর রুম- বগি নম্বর ৭৩৫৬) মেঝেতে ভাঙ্গা দেখতে পান রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশল/বিদ্যুতের কর্মচারীরা। পরে এস এস এ/ই - ইলেক" দপ্তরের কর্মচারী মাসুদ রানা নয়নের নেতৃত্বে সাজেদুল ইসলাম, মিরাজসহ কয়েকজন অস্থায়ী (টিএলআর) কর্মচারী দিয়ে ইয়ার্ডে অবস্থানকরা রমনা বাজার মেইল ট্রেনের পাওয়ারকারে ওয়েল্ডিং এর কাজ শুরু করে। নিয়মানুযায়ী ওয়েল্ডিং এর কাজের আগে পাওয়ার কারে থাকা ফুয়েল ট্যাংক খালি করার কথা থাকলেও তা উপপেক্ষা করে কাজ করে আসছিলো ভিন্ন দপ্তরের অদক্ষ এই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে ওয়েল্ডিং এর ফুলকি মেঝেতে পরলে জ্বালানী তেলের সংস্পর্শে এসে মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বগিতে। এক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরে ওয়েল্ডিং কাজে থাকা সংশ্লিষ্টরা। খবর পেয়ে পার্বতীপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় রাত ১ টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোন প্রকার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কি ঘটেছিলো পাওয়ারকারে? জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি ওয়েল্ডিং এর নেতৃত্বদানকারী ঊর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী/বিদ্যুত পার্বতীপুর দপ্তরের কর্মচারী মাসুদ রানা নয়ন।
কথা হয় ঘটনাস্থলে ওয়েল্ডিং এর কাজে সহায়তাকারী রেলওয়ের ট্রেন পাসিং দপ্তরের অস্থায়ী (টিএলআর) কর্মচারী মিরাজের সাথে। তিনি বলেন, ট্রেন পাসিং দপ্তরের কর্মচারী হলেও তাদের নিয়ে এসে ওয়েল্ডিং এর কাজ করতে বলা হয়। কাজ করার সময় মেঝেতে থাকা জেনারেটরের তেলে প্রথমে আগুন ধরলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত কর্মচারীদের অদক্ষতার কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে পার্বতীপুর জংশন স্টেশনের মাষ্টার (এসএম) রেজাউল ইসলামের অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পার্বতীপুরের ইন্সপেক্টর আহসান হাবীব বলেন, ইয়ার্ডের ওই বীটে দায়িত্বপালনকারী আরএনবি সদস্যদের মাধ্যমে প্রথম সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। পরে ফায়ারসার্ভিস, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেল পুলিশ ছাড়াও উপস্থিত এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে।
পার্বতীপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের লিডার মোঃ দুলাল জানান, খবর পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় কল গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। তবে, প্রথমে শুধু পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও পরে পাউডার ব্যবহার করা হয়।
ঘটনার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাটের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে হলে তাকে পাওয়া যায়নি।