ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

মার্চ মাসে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২ কোটি ১১ লাখ রাজস্ব আদায়

মো: মোতাহার হোসেন সরকার

প্রকাশ: ১৪:৫৯, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মার্চ মাসে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২ কোটি ১১ লাখ রাজস্ব আদায়

ছবি: পঞ্চগড় রেলস্টেশন

উত্তরবঙ্গের শেষ প্রান্তিক এই রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিয়মিত দেশের নানা প্রান্তে ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে চলাচল করছে একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। এছাড়া পঞ্চগড়-রাজশাহী রুটে রয়েছে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়-সান্তাহার রুটে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড়-পার্বতীপুর রুটে আন্তঃনগর কাঞ্চন কমিউটার।

এই প্রান্তিক স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ট্রেনে ভ্রমণ করে থাকে। আয়ের দিক থেকেও পঞ্চগড় স্টেশন বরাবরই শীর্ষে অবস্থান করে আসছে। গত মার্চ মাসে এই স্টেশন থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ২৬ হাজার ১৪ টাকা।

ট্রেনভিত্তিক আয়ের মধ্যে পঞ্চগড়-সান্তাহার রুটে চলাচলকারী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস (৭৬৮) থেকে এসেছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৪ টাকা।

 পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৮) থেকে ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৪ টাকা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৪) থেকে ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭১২ টাকা এবং একতা এক্সপ্রেস (৭০৬) থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০ টাকা আয় হয়েছে।

এছাড়া পঞ্চগড়-রাজশাহী রুটে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৪) থেকে ৭ লাখ ২ হাজার ৮৭৭ টাকা এবং পঞ্চগড়-পার্বতীপুর রুটে আন্তঃনগর কাঞ্চন কমিউটার (৪২) থেকে ২ লাখ ২ হাজার ২৬৫ টাকা রাজস্ব এসেছে।

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খাতেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। গুডস থেকে ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৮ টাকা, লাগেজ ও পার্সেল থেকে ৮ হাজার ৫৫৭ টাকা, টিসি জমা দিয়েছে ২৩ হাজার ১০০ টাকা এবং টিটি জমা দিয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৪২৫ টাকা।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাহিদ ইসলাম রেল নিউজ ২৪ কে জানান, প্রান্তিক স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও সব সময় আয়ের শীর্ষে থাকতে সক্ষম হয়েছে এই স্টেশন। নিয়মিত টিকিট চেকিং অভিযান পরিচালনার ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।

যাত্রীদের মতে, বর্তমানে টিকিট ছাড়া ভ্রমণের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে, যা রেলের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। ঢাকা গামী এক যাত্রী বলেন, “আগে অনেকেই টিকিট ছাড়া উঠতো, এখন নিয়ম কড়া হওয়ায় সবাই টিকিট কেটে ভ্রমণ করছে।” আরেক যাত্রী জানান, “পঞ্চগড় থেকে সরাসরি দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন চলাচল করায় আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে।”

সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের এই প্রান্তিক রেলওয়ে স্টেশনটি শুধু যোগাযোগের কেন্দ্র নয়, বরং রেলের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন