শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ১৪:০৮, ২২ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (এমএম-পূর্ব) হিসেবে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী তরুণ কান্তি বালাকে প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা (পূর্ব) পদে দেওয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক দাপ্তরিক আদেশে তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (পূর্ব) মো. শওকত জামিল মোহসীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
জানা যায়, তরুণ কান্তি বালা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (এমএম-পূর্ব) হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তাকে প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা (পূর্ব) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু-পূর্ব) পদেও দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে একযোগে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সূত্রের দাবি, তার স্বাভাবিক চাকরির মেয়াদ ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অবসরে না পাঠিয়ে তাকে মূল দায়িত্বের পাশাপাশি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
এদিকে, তরুণ কান্তি বালার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুদকের দায়ের করা ফৌজদারি আপিল নং-৫৯৯০/২০১৯ বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ৬ দিন, যা নিয়ে আদালতে বিচারাধীন বিষয় রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, যদি আদালতের চূড়ান্ত রায় তার বিপক্ষে যায়, তাহলে স্বাভাবিক অবসরের পর অতিরিক্ত সময়ে তার দায়িত্ব পালন এবং ওই সময়ে গৃহীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ নথির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বিচারাধীন ফৌজদারি আপিলের বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে অবহিত করেননি।
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও জানা গেছে, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে তার বেতন-ভাতার এন্ট্রি গ্রহণ করা হচ্ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার বয়সসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে তিনি নিয়মিত রাজস্ব খাত থেকে বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী তরুণ কান্তি বালা রেল নিউজকে বলেন, দপ্তরাদেশ এখনো হাতে পাননি। মামলার বিষয়ে তিনি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে তার বেতন-ভাতার এন্ট্রি হচ্ছে না, কারন যখন এই সিস্টেমে আমরা এন্ট্রি দেই তখন মুক্তিযোদ্ধার অপশন ছিলোনা। আমি ডিজি মহোদয় এর মাধ্যমে সচিব মহোদয় এর আবেদন করেছি। আশাকরি দ্রুত সিস্টেমে স্যালারি চলে আসবে। যদি মামলায় হেরে যান তখন এই দায়িত্বের কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবে আমাদের মেনে নিতে হবে। তবে তিনি দৃঢ় মনোবল নিয়ে বলেন, আমার হারার কোন সুযোগ নেই। আমার ট্রেনিং এর ডকুমেন্টস আছে। এতো কম বয়সে কেমনে ট্রেনিং করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা কম বেশি অবগত, তখন সঠিক বয়স কেউ দিতো না।