শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ১৭:৩২, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৬, ২২ জুলাই ২০২৬
১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ৮ কোটিরও বেশি টাকায় কেনা হয়েছে? না এটা সম্পূর্ণ মিডিয়া ট্র্যায়াল? এ নিয়ে রেলওয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। সম্প্রতি ডয়েজ (DEUTZ) ডিজেল ইঞ্জিনের স্পেয়ার পার্টস ক্রয়ে অনিয়ম, অতিমূল্য নির্ধারণ এবং টেন্ডারে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (CCS) দপ্তর।
দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে দাবি করা হয়েছে—প্রায় ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ৮ কোটিরও বেশি টাকায় কেনা হচ্ছে—তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। রেলওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী ডিজেল ইঞ্জিনের ১৪ ধরনের স্পেয়ার পার্টসের জন্য প্রস্তুতকৃত প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকায় ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকারের এক কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়।
টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে রেলওয়ে জানায়, চারটি ই-জিপি টেন্ডারে মোট ৩ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নের পর তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই Technically Responsive হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে আর্থিক মূল্যায়নে AZMAIN TRADE INTERNATIONAL সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় তাদের অনুকূলে টেন্ডার অনুমোদন ও NOA জারি করা হয়েছিল। ফলে NEXT GENERATION GRAPHICS LTD (NGGL)-কে কাজ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দপ্তর।
রেলওয়ে আরও বলেছে, টেন্ডারে অংশ না নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার বা অধিকাংশ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একইভাবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগও বিভাগীয়ভাবে নিষ্পত্তিকৃত বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দপ্তরের বক্তব্যে আরও বলা হয়, পুরো ক্রয়প্রক্রিয়ায় পিপিআর-২০০৮, ই-জিপি গাইডলাইন এবং প্রযোজ্য সব আর্থিক বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ ছিল না।
গত ০৯ জুলাই প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, পূর্ব উক্ত মালামাল বর্তমানে তাদের প্রয়োজন নাই মর্মে এক পত্রে জানান। এর প্রেক্ষিতে ডিজি রেলওয়ের অনুমোদন নিয়ে উক্ত মালামাল ক্রয়ের সকল কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত ও সামাজিকভাবে বিব্রত করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় কার্যক্রমে অযথা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন বলেন, কোন প্রকার অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে উক্ত মালামাল ক্রয়ের সকল কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।