শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৩৬, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩৭, ২২ অক্টোবর ২০২৬
কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, স্টেশন মাস্টারের অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে সহকারী স্টেশন মাস্টার রুনা লায়লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাকশীর বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের (ডিআরএম) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রেল নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি হোসাইন রাজীব।
অভিযোগপত্রে হোসাইন রাজীব উল্লেখ করেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৩৬তম লালন তিরোধান উপলক্ষে ট্রেনে যাত্রীচাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশনে যান। রাতের দায়িত্ব পালনের সময় স্টেশন মাস্টারের অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী স্টেশন মাস্টার রুনা লায়লাকে উপস্থিত পাননি। এ সময় অফিসে একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখেন তিনি। ওই ব্যক্তি স্টেশন মাস্টার অনুপস্থিত জানিয়ে নিজেকে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোসাইন রাজীবের দাবি, পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ রেলওয়ের কোনো স্টাফ নন। বিষয়টির ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্টেশনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে রাজবাড়ীগামী একটি ট্রেন চলাচল করে। পরে রুনা লায়লা স্টেশনে এলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি এবং অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকশীর ডিটিওকে ফোন করেন হোসাইন রাজীব। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি পাকশীর ডিসিও হাসিনা খাতুনকেও জানান। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মী হোসাইন রাজীবের অভিযোগ, স্টেশন থেকে ফেরার সময় রুনা লায়লা তাঁকে ডেকে নিজের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনার মতো অনেক সাংবাদিক আমি স্টেশনে পুষি।” এ ছাড়া তাঁকে ‘খারাপ সাংবাদিক’ বলে মন্তব্য করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস কোথায় পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগও করেছেন তিনি।
হোসাইন রাজীব জানান, ১৩৬তম লালন তিরোধান উপলক্ষে ট্রেনে যাত্রীচাপ কেমন ছিল, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাঁর সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মীকে নিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। অফিসে তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ স্টেশন মাস্টার এমদাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন হোসাইন রাজীব। এ সময় সংশ্লিষ্ট সহকারী স্টেশন মাস্টারের আচরণ সম্পর্কে এমদাদ তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। প্রয়োজন হলে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করে বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি, নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন, স্টেশন মাস্টারের অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির অবস্থান এবং গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে আচরণের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হোসাইন রাজীব।
পাকশীর বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ের ডিউটি রোস্টার ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই, বহিরাগত ব্যক্তির পরিচয় অনুসন্ধান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ উপস্থাপন করতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।