ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ১০ রমজান ১৪৪৭

নির্বাচনের মুহূর্তে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষা: রহস্য ও উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩:২৪, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২৪, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের মুহূর্তে রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষা: রহস্য ও উদ্বেগ

মনিরুজ্জামান মনির :

জাতীয় নির্বাচন সামনে, নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন প্রক্রিয়া চলমান এবং শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এটি গুরুতর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, অথচ ট্রাফিক অ্যাপ্রেন্টিস ও ট্রেন কন্ট্রোলার পদের পরীক্ষা ২৩ জানুয়ারি, এবং ট্রেন এক্সামিনা ও ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিসের পরীক্ষা ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ নেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।”

মনিরুজ্জামান মনির আরও উল্লেখ করেন, “২০২০ সালের নিয়োগ বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত সংশোধন হয়নি। মহামান্য হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই রুল জারি করেছেন। যেখানে বিধিমালার বৈধতা বিচারাধীন, সেখানে নতুন নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া প্রক্রিয়াগতভাবে অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি অতীত উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “২০২১ সালে সংশোধন শেষ না করেই প্রায় ৬ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা আজও প্রশ্নবিদ্ধ। এখন আবারও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে কি না—এটাই আমাদের উদ্বেগ।”

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “নির্বাচনকালীন ব্যস্ততা ও নজরদারির ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে নিয়োগ কমিটি হয়তো তাড়াহুড়া করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়; এটি রাষ্ট্রীয় কৌশলগত সংস্থা। এই তাড়াহুড়ো ও আইনি অনিশ্চয়তা শুধু পরীক্ষার্থীর সঙ্গে অবিচার নয়, রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার ওপরও আঘাত।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত না হওয়া, হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া এবং জাতীয় নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত। অন্যথায় এটি বড় আইনি সংকট ও জনআস্থার ক্ষতি ডেকে আনবে।”

উল্লেখযোগ্য, গত ১৩ জুন ২০২৪ প্রকাশিত সার্কুলার এত দীর্ঘ সময়েও কার্যকর হয়নি। নির্বাচনের মুহূর্তে পরীক্ষা আয়োজনকে পোষ্য সোসাইটি গভীর রহস্যময় ও উদ্বেগজনক মনে করছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন