শিরোনাম
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১২:৩৪, ২৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫০, ২৬ মার্চ ২০২৬
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোর পৌনে ৬ টার দিকে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দুঃখজনক। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন খাত বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে। তাই এই ঘটনায় সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।উল্লেখ্য, চট্টলা এক্সপ্রেস রাত ২০:৩০ ঘটিকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর রাত ২২:০০টায় চট্টগ্রাম মার্শালিং ইয়ার্ডে নেওয়া হয়। সেখানে সারারাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে ট্রেনটিকে চলাচলের উপযোগী করা হয়। ভোর ৫টায় ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে স্থাপন করা হয় এবং পরবর্তী এক ঘণ্টা পুনরায় পরীক্ষা শেষে সকাল ৬টায় প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নির্দেশে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের সময় ট্রেনের ভেতরে প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াকিং গার্ড ও কন্ডাক্টর গার্ড দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পাওয়ার কারে প্রধান বৈদ্যুতিক কর্মকর্তার প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকেন। এতগুলো স্তরে তদারকি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও যদি আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটে, তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—দায়িত্ব পালনে কোথাও কি অবহেলা ছিল?বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, পাওয়ার কার ও অন্যান্য যান্ত্রিক অংশে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রধান বৈদ্যুতিক কর্মকর্তার তদারকি যথাযথ হলে অনেক সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। তাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।এ ধরনের দুর্ঘটনায় রেলওয়ের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তা রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষতি। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবহেলার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে, তবে প্রচলিত রেলওয়ে আইনের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের লাখো মানুষের ভরসার পরিবহন ব্যবস্থা। তাই নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত না করলে যাত্রীদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। চট্টলা এক্সপ্রেসের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে—সেজন্য দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এখনই জরুরি।