শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০০, ২৪ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০১৪ সালে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে আমদানি করা ডেমু (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের প্লাস্টিক বডির এসব ডেমু ট্রেন চালুর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়, মাহাবুব কবির মিলন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, ৬৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়ে অতীতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হলেও দীর্ঘ সময় কোনো মামলা হয়নি।
তার দাবি অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই ডেমু ট্রেন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা তৈরি হতে পারে, এমনকি অবসরে যাওয়ার পরেও তাদের দায় এড়ানো কঠিন হবে।মাহাবুব কবির মিলন আরও বলেন, সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষ ডেমু ট্রেনগুলো পুনরায় মেরামত করে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এসব ট্রেনের অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট বা অনুপস্থিত এবং অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ পাওয়াও কঠিন। অতীতেও কয়েক দফা মেরামতের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হলেও কার্যত ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মেরামতের এই উদ্যোগকে ব্যবহার করে কেউ কেউ হয়তো প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারে যে প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি, বরং সামান্য ত্রুটির কারণে ট্রেনগুলো বন্ধ ছিল।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আবারও স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের এই প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে দুদকের নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
মাহাবুব কবির মিলন তার পোস্টে আশা প্রকাশ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।