ঢাকা, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রেলের ১১ ট্রেন ইজারা: লাভের হিসাব কার?

মনিরুজ্জামান মনির

প্রকাশ: ১৯:২৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেলের ১১ ট্রেন ইজারা: লাভের হিসাব কার?

রাজস্ব ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি ট্রেনের দরপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ট্রেনগুলোর দরপত্রও আহ্বান করা হবে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে সাত জোড়া বা ১৪টি ট্রেন বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলে ইজারা দেওয়া ট্রেনগুলো লাভজনক হবে। তবে নতুন করে ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়ার আগে ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া ট্রেনগুলোর প্রকৃত আর্থিক ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “ইজারা দেওয়ার আগে প্রতিটি ট্রেনের আয়-ব্যয়, ইজারা মূল্য এবং ইজারা শেষে রেলের প্রকৃত রাজস্ব কত হবে-তার স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে থাকা প্রয়োজন। শুধু ‘লাভজনক হবে’ বললেই সিদ্ধান্তের আর্থিক যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয় না।”

তিনি বলেন, শুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া সব ট্রেন এবং অনবোর্ড সার্ভিসের আয়-ব্যয় ও চুক্তির শর্তও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থায় রেলের রাজস্ব কতটা বাড়ছে এবং যাত্রীসেবায় কী প্রভাব পড়ছে, তার একটি সমন্বিত মূল্যায়ন দরকার।

ট্রেন ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে রেলের কিছু কর্মকর্তা ও বেসরকারি ঠিকাদারদের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত বা অঘোষিত সম্পর্ক থাকার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন মনিরুজ্জামান মনির। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তার বক্তব্য, “অভিযোগ থাকলে সেটি নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। দরপত্রের শর্ত, ইজারা মূল্য, প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেন-এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

এ কারণে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ইজারা দেওয়া ট্রেন এবং অনবোর্ড সার্ভিস নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সমন্বিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আইনানুগভাবে নথি, চুক্তি, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করার কথাও বলেন তিনি।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “তদন্তের উদ্দেশ্য কাউকে আগেই অভিযুক্ত করা নয়; প্রকৃত চিত্র বের করে আনা। কোথাও অনিয়ম না থাকলে সেটিও পরিষ্কার হবে, আর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

নতুন করে ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়ার আগে ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া ট্রেনগুলোর আয়-ব্যয় ও চুক্তির বাস্তব ফলাফল মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রেলের সম্পদ থেকে রাষ্ট্র কতটা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে—এই হিসাবই হওয়া উচিত ইজারা ব্যবস্থার প্রধান মাপকাঠি।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন