শিরোনাম
রেল নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৪৩, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৩, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আনুমানিক ২৮ মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ঢাকা রেলওয়ে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মো. জুয়েল রানা (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে ঢাকা রেলওয়ে থানার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে এক ব্যক্তিকে কোলে একটি শিশুকে নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। এ সময় শিশুটি অনবরত কান্নাকাটি করছিল। ওই ব্যক্তির আচরণে সন্দেহ হলে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল রানা দাবি করেন, শিশুটি তাঁর নিজের সন্তান নয়। কুষ্টিয়া রেলস্টেশন এলাকায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী শিশুটিকে তাঁর কাছে রেখে চলে গেছেন বলে তিনি পুলিশকে জানান। তবে শিশুটিকে স্থানীয় থানা বা সমাজসেবা কার্যালয়ে হস্তান্তর না করে কুষ্টিয়া থেকে জয়দেবপুরে নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে পাচার ও বিক্রির অসৎ উদ্দেশ্যে জয়দেবপুরে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
ঢাকা রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার জুয়েল রানার বিরুদ্ধে এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর থানায় ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছিল। পুলিশি অপরাধ রেকর্ডে মামলাটির তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা বা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারি নিরাপদ আশ্রয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ঢাকা রেলওয়ে থানায় নিয়মিত মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটিকে পাচারের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের সন্ধান নিশ্চিত করা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।