ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

১০ কার্তিক ১৪৩৩

টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষ প্রকৌশলী গড়ে তোলার আহ্বান রেল প্রতিমন্ত্রীর

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:৩৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০০:৩৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষ প্রকৌশলী গড়ে তোলার আহ্বান রেল প্রতিমন্ত্রীর

টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ প্রকৌশলী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, সড়ক, সেতু, রেলপথসহ বিভিন্ন যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গুণগত মান, নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (সিইএএ–ইউএপি) ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পরিকল্পিত ও টেকসই অবকাঠামোর গুরুত্ব অপরিসীম। অবকাঠামো নির্মাণে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, বরং গুণগত মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাগত নৈতিকতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৌশলীদের প্রতিটি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা, জনস্বার্থ এবং দেশের ভবিষ্যৎ জড়িত।

তিনি আরও বলেন, প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রকৌশল, স্মার্ট পরিবহনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর গুরুত্ব বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রকৌশল শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো জরুরি।

অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। নবীন প্রকৌশলীদের জন্য মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে অ্যালামনাই সংগঠনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৌশল পেশায় নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও মানসম্মত কাজের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সক্রিয় হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন কে. এম. মোজিবুল হক। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; সাবেক শিক্ষার্থীদের পেশাগত সাফল্য, উদ্ভাবন এবং সমাজে অবদানও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহন করে।

ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যালামনাইদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে কর্মজীবনের প্রস্তুতি, নেতৃত্বের বিকাশ এবং গবেষণায় আগ্রহ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার, ইউএপির সাবেক শিক্ষক ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) অধ্যাপক ড. মো. তারেক উদ্দিন, ইউএপির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. জি. আর. আহমেদ জামাল এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান সৈয়দ জামাল উদ্দিন আহমেদ।

সিইএএ–ইউএপির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ বাড়বে এবং দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন