ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩

যে কারণে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করলেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা!

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩:০২, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যে কারণে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করলেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা!

সিলেটগামী আন্তঃনগর ৭১৯ আপ পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন সংযুক্তিতে দীর্ঘ বিলম্বকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়তে না পারায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটিতে ইঞ্জিন সংযুক্ত না হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ট্রেন ছাড়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে যাত্রীরা স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত ইঞ্জিন সংযুক্ত করে ট্রেন চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ট্রেন চলাচল নিয়ে তাঁরা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছিলেন না। এতে তাঁদের ভোগান্তি বাড়তে থাকে। যাত্রীদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের আসার খবর পেয়ে স্টেশন ম্যানেজার তাঁর কক্ষ থেকে সরে যান। সংকটের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কক্ষে না পেয়ে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় বলে জানান তাঁরা।

এদিকে, দীর্ঘ বিলম্ব ও যাত্রীদের বিক্ষোভের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে কোন কোন কক্ষে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নানা নাটকীয়তা ও বিক্ষোভের পর অবশেষে সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি ২৯৩৬ নম্বর লোকোমোটিভ নিয়ে যাত্রা করে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ৩ ঘণ্টা ৭ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে ট্রেন ছাড়ার মধ্য দিয়ে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও ইঞ্জিন সংযুক্তিতে দীর্ঘ বিলম্ব, যাত্রীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের ঘাটতি এবং স্টেশনের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীসেবার স্বার্থে বিলম্বের কারণ স্পষ্ট করা এবং স্টেশনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন