ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩

টিকিট কালোবাজারি থেকে ইঞ্জিনের সমস্যা,রেলের কমিটিগুলো নিয়ে প্রশ্ন মিলনের

রেল নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:০৪, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

টিকিট কালোবাজারি থেকে ইঞ্জিনের সমস্যা,রেলের কমিটিগুলো নিয়ে প্রশ্ন মিলনের

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসের দায়িত্বকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম, একাধিক কমিটি গঠন এবং সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক রেলসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মাহবুব কবির মিলন। তাঁর অভিযোগ, রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে গঠিত তিনটি কমিটি কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। কমিটিগুলোর সদস্য নির্বাচন, কার্যক্রম ও বাস্তব অগ্রগতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে মাহবুব কবির মিলন রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি রোধ, লোকোমোটিভের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং রুট রেশনালাইজেশনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে কমিটি গঠন করা হলেও প্রত্যাশিত অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের অগ্রগতি স্পষ্ট নয়।

মাহবুব কবির মিলন বলেন, রেলওয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না; কমিটির সদস্য কারা ছিলেন, তাঁরা কী কাজ করেছেন এবং তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনা করতে হবে।

### টিকিট কালোবাজারি রোধে কমিটির কার্যক্রম কোথায়?

রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রির ব্যবস্থায় কালোবাজারি রোধ এবং টিকিটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মাহবুব কবির মিলন।

তিনি এ কমিটির সদস্য নির্বাচন ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, টিকিট কালোবাজারি রেলওয়ের অন্যতম আলোচিত সমস্যা। অথচ এ বিষয়ে গঠিত কমিটির কাজের অগ্রগতি ও সুপারিশ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি বলে তাঁর অভিযোগ।

### ইঞ্জিনের ত্রুটি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন

রেলওয়ের লোকোমোটিভের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান ইঞ্জিনের ত্রুটি-বিচ্যুতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরির জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মাহবুব কবির মিলনের বক্তব্য অনুযায়ী, হুন্দাই রোটেমের তৈরি ইঞ্জিনসহ রেলওয়ের ইঞ্জিনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, কমিটির কাছে ইঞ্জিনের ত্রুটি, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ ইঞ্জিনের নকশা ও মান সম্পর্কে সুপারিশ প্রত্যাশিত থাকলেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

তবে ইঞ্জিন ক্রয়ে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।

### রুট রেশনালাইজেশন কমিটির কাজ নিয়েও অসন্তোষ

রেলওয়ের রুট রেশনালাইজেশনের জন্য গঠিত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মাহবুব কবির মিলন। তাঁর মতে, কোন রুটে ট্রেন চলাচল বাড়ানো বা কমানো প্রয়োজন, কোথায় কোচের সংখ্যা পরিবর্তন করা দরকার এবং কীভাবে যাত্রীসেবা ও পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনা সম্ভব—এসব বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন।

কিন্তু তাঁর দাবি, এ কমিটিও কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এ কারণে কমিটির সদস্য নির্বাচন, কার্যপরিধি ও বাস্তব কাজের বিবরণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

### তিন শিক্ষার্থীর বিনা মূল্যে ট্রেন ভ্রমণ নিয়েও বক্তব্য

রেলওয়েকে লাভজনক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিন শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে সারা দেশে ট্রেন ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মাহবুব কবির মিলন।

তিনি দাবি করেন, ওই সুযোগের অপব্যবহার নিয়ে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষার্থীকে ওই সুযোগ ছাড়তে হয় বলেও জানান তিনি।

### ‘সরকার বদলেছে, রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন কোথায়?’

রেলওয়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহি নিয়ে সমালোচনা করে মাহবুব কবির মিলন বলেন, নেতৃত্ব ও সরকার পরিবর্তিত হলেও মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বড় অংশ আগের মতোই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রেলওয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান কঠিন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রত্যাশা, প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং সম্ভাব্য অনিয়ম রেলওয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

### কমিটিগুলোর প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি

রেলওয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাহবুব কবির মিলন কমিটিগুলোর সদস্য তালিকা, সভার কার্যবিবরণী, পর্যবেক্ষণ, সুপারিশ এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো—রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কমিটি গঠন করা হলেও সেগুলোর কার্যকর ফলাফল কোথায়? কমিটিগুলোর কাজের নথি প্রকাশ করা হলে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন