ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

পহেলা বৈশাখ

মেট্রো স্টেশনে ধাক্কা লেগে ভাঙলো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রার’ মোটিফ

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৪০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

মেট্রো স্টেশনে ধাক্কা লেগে ভাঙলো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রার’ মোটিফ

ছবি: সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণিল এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে।তবে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন এলাকা পার হওয়ার সময় এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কবলে পড়ে।মিছিলে থাকা বিশাল আকারের পাঁচটি মোটিফের মধ্যে তিনটি মেট্রোরেল স্টেশনের ছাদে আটকে যায় এবং এর ফলে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


লাল ঝুঁটি মোরগ, দোতারা ও একটি ঘোড়ার মোটিফ স্টেশনের নিচের অংশ দিয়ে পার করার সময় উচ্চতার কারণে ধাক্কা লাগে। এ সময় লাল ঝুঁটি মোরগের ওপরের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোটিফগুলো পার করে নেওয়া হয়। তবে বিশালাকৃতির টেপা ঘোড়াটি স্টেশনের পিলারে আটকে যাওয়ায় সেটি আর পার করা সম্ভব হয়নি এবং সেখান থেকেই শোভাযাত্রাটি ইউটার্ন নিতে বাধ্য হয়।সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় ঘুরে রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলায় ফিরে আসে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে করে চারুকলার তৈরি মুখোশগুলো প্রদর্শন করেন।


এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ ছিল লোক-ঐতিহ্য ও সমসাময়িক রাজনীতির এক চমৎকার মেলবন্ধন। দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে স্বাগত জানাতে মোরগকে নতুন ভোরের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।


এছাড়া লোকজ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোতারা, শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে পায়রা, হাতি এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক টেপা ঘোড়া শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল।


পুলিশের সুসজ্জিত ঘোড়সওয়ার দল ও জাতীয় পতাকা হাতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক আনন্দঘন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মেট্রো স্টেশনে মোটিফ ভাঙলেও আমেজ কমেনি উৎসবের আনন্দে। বরং গণতন্ত্রের জয়গান গেয়ে নতুন বছরকে বরণ শেষে চারুকলা প্রাঙ্গণে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন