শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:৪৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর ভাটারা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সংযোগ সম্প্রসারণে কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। ‘নর্দার্ন রুট’ নামে পরিচিত মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫ প্রকল্পটি হবে ঢাকার প্রথম পূর্ব-পশ্চিমমুখী মেট্রোরেল।প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের নির্মাণকাজ ১০টি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩.৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ এবং বাকি অংশ এলিভেটেড। হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এই রুটে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি ভূগর্ভস্থ—গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুখেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার। অপরদিকে হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় থাকবে এলিভেটেড স্টেশন।প্রকল্পটি চালু হলে ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট, যেখানে বর্তমানে যানজটের কারণে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। প্রতিটি ট্রেন একসঙ্গে ৩,০৮৮ জন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে প্রায় ৫৩,২০০ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। দৈনিক যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখের বেশি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১,২৩৮.৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দিচ্ছে ২৯,১১৭.০৫ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ সরকার বহন করবে।প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্মাণকাজে মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে শব্দ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলিভেটেড অংশে 'কন্টিনিউয়াস ওয়েল্ডেড রেল' ব্যবহার এবং সাউন্ড ব্যারিয়ার স্থাপনের মাধ্যমে শব্দ ও কম্পন কমানো হবে।
কর্মকর্তাদের আশা, ২০৩০ সালের মধ্যেই এমআরটি লাইন-৫ চালু করা সম্ভব হবে, যা ঢাকার যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।