শিরোনাম
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৩৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মেট্রোরেলের যাত্রীসেবার ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বর্তমানে বলবৎ থাকা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। এই সুবিধা ২০৩৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সুপারিশ পাঠাতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি ।
ডিএমটিসিএলের চিঠিতে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবের পক্ষে ১৭টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল একটি ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’ বা উদীয়মান শিল্প এবং এর স্থায়িত্ব ও জনগণের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এই অব্যাহতি প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো আলাদা ‘ক্লাস’ বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। এছাড়া ভাড়ার সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করলে স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিনে ভাংতি টাকা লেনদেনে বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা তৈরি হবে। বর্তমান মেশিনগুলো ১০ টাকার গুণিতক নোট গ্রহণ ও ফেরত দিতে সক্ষম, তাই ক্ষুদ্র অঙ্কের ভাংতি দেওয়া সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি ও বাস্তবায়ন) মো. আজিজুর রহমান বলেন, নিয়মানুযায়ী এক বছরের বেশি ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এখন অব্যাহতি দিতে হলে সেটি জাতীয় সংসদে পাস হতে হবে। যেহেতু নতুন সরকার এসেছে। তাদের চিঠির বিষয়ে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। অব্যাহতির ব্যাপারে সংসদ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
দেশে প্রথম মেট্রোরেল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উদ্বোধন করা হয়। পরদিন ২৯ ডিসেম্বর এই অংশটি সাধারণ জনগণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশেও ট্রেন চলাচল শুরু হয়। মেট্রোরেল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও শুরু থেকেই এর টিকিটে ভ্যাট মওকুফ ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেট্রোরেল সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।